Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2020

In an open relationship

রাত বারোটা পেরিয়ে গেছে, পেরিয়ে গেছে হরতাল, পেরিয়ে গেছে রাষ্ট্র মেরামত করতে 'men at work' নোটিস লাগানোর সময়, এবার কথা বলবো.... আজ হইতে আমার এই পঞ্চেন্দ্রীয় আর দশ জ্ঞানেন্দ্রীয়কে মুক্ত করলাম, এবার থেকে হা পিত‍্যেশ করে বসে থাকবো আকাশ পানে চেয়ে কখন পড়বে স্বাধীনতা টপকে আমার বার করে থাকা জিভে, আমার হোমিওপ্যাথি ওষুধের চিনির গোলা খালাসীটোলার স্পিরিটে ভিজে। টিশার্ট, জিন্স খুলে উলংগ হয়ে বসলাম রাস্তায় মুক্ত হয়ে, ঘোর অঘোর এর ফাঁদ দেখতে কখন শালা আসবে মুক্তি আসবে আমার দেহে! খুলে রাখলাম নিজেকে হাড় পাঁজর বার করে করোটির অর্ধেক উম্মুক্ত করে... এর পর থেকে আর ভালোবাসা ফেরাবো না অভিশাপবদ্ধ হয়ে... বুকে রাগ এলে ঘুষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার আগে দুইবার ভাববো না... চোখের তলায় কালি ভরা ফোলা নিয়ে বাঞ্চোত পরদিন মেসেজ করবি... জিগেস করে জেনে নিবি কি ছিল তোর অপরাধ! তার পরে আমি আরেকটা কবিতা লিখবো... কবিতা লিখতে লিখতে গদ্য হয়ে যাবে, তোর গলা জড়িয়ে ধরে দু ফোঁটা চোখের জল ফেলে কেঁদে নেবো! অল্প দু ঘা মার খেয়ে বেঁচে গেলি বেহায়া... শুধরে যা! নয়তো আরেক বার যদি আগুন জ্বলে ওঠে প্রাণে বাঁচবি না সেদিন....

লেখা ১৩

সবই ভালবাসার অভাব, যত confusion, ধরা অধরা আর হাত পিছলে সূত্রের পালানো... কোথায় এর জন্ম wander করতে থাকা, এ সবের মূলে ওই একই উত্তর, ভালবাসার অভাব। যা কিছু হলোনা, কেন হোলনা, আর কেনই বা এমনটা হলো, বা হচ্ছে, এ সবই ওই ভালবাসার অভাব এর লীলা... আবার লীলা আর বাতেলা জিনিসটা নাকি শুনলাম আসলে একই , যে যে বাতেলারা ফ্যান আর ঈশ্বরিক properties বা ধর্ম এর অভাবে লীলা হয়ে উঠতে পারেনা তারাই নাকি বাতেলা হয়ে থেকে যায়, সেদিক দিয়ে সব লীলাই আসলে বাতেলা, আর সব বাতেলারই লীলা হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা ছিল, সৃষ্টিও তো দিনের শেষে এক প্রকার বাতেলাই কিনা... ঠিক যেমন ভাবে সব music ই আসলে পাতি একটা শব্দ, আর সব শব্দের মধ্যেই একটা অদ্ভুত music লুকিয়ে আছে, তবুও আপনারা শব্দ আর music কে এক নামে ডাকেন না... কাজেই ভালবাসার অভাব কে লীলা ও বাতেলা দুই বলে গণ্য করা যায়, পুরোটাই নির্ভর করছে ভালবাসার প্রতি কতটা ভালবাসা আছে তার ওপরে। তাই আপনার ভাল কবিতা খারাপ কবিতা এও ওই ভালবাসার অভাবের রেজালট্যান্ট।  

ভবঘুরের অনাহুত ভবঘুরে অতিথি সম্পর্কে

বুকের কোণে একটু হলেও কেমন যেন করে! একের পর এক ভবঘুরেদের সাথে কয়েকটা দিন রাত ভাগ করে নিয়ে, আবার তাদের নিজের নিজের পথে হাত দেখিয়ে রওনা করিয়ে দিতে! কিন্তু কিই বা আর করা যাবে, পথিকের সম্পূর্ণতা রাস্তায়! যারা যেখানে সুন্দর! এমন প্রত্যেকটা মিলনে যেন পার হয়ে যাচ্ছে একটা একটা করে আস্ত জীবন আমার! দিনের শেষে জীবনও তো তাই, এক অস্তিত্বহীন মহাশূন্য থেকে আরেক অস্তিত্বহীন নিঃশেষ শূন্যতার মাঝে কয়েকটা দিন বই তো কিছু নয়! পথিকের পথে এক প্রহরের গাছের ছায়া ছাড়া আর কিই বা... আজ যে গেল তার জায়গা পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে নেবে অন্য কেউ! মেক্সিকান গেল, স্প্যানিশ এলো, স্প্যানিশ গেল, ফ্রেঞ্চ এলো, তাও আবার যুগলে , ফ্রেঞ্চ যাচ্ছে, আরেক ফ্রেঞ্চ আসছে, এককে... এভাবেই জীবনের রং, রস, রূপ চুষে চুষে খাচ্ছি আমি ঘরের কোণে বসে বসে! সব ভবঘুরের গল্প বাজারে বসে শোনাতে ভালো লাগে না! কিছুটা ঘটে যায় অন্তরের নিভৃত কোণে, সেটুকু নিয়ে ওদের ফেলে যাওয়া ফাঁকা ঘরের কোণায় বসে কিচ্ছুক্ষন একা সময় কাটাতেই মন চায়! মনকে পোর্টেবল স্টোভে ট্রাভেলিং কুকওয়ারে, সযত্নে লালিত মুহূর্তের তেলে ফেলে নেড়ে চেড়ে রাঁধার মতো! এ খাদ্য কি হজম হবে পেটে, নাকি আ...

মুখে মোতার গল্প

একটা গল্প বলি, মুখে মোতার গল্প, বাবা লোকনাথের কাছে তো প্রতিদিন প্রচুর লোক আসত বিভিন্ন প্রকার বক্তব্য নিয়ে, তো এমনি একদিন সন্ধ্যের টাইমে লোকাল বাজারের একদল প্রতিষ্ঠিত মাড়োয়ারি ব্যবসাদার এসেছে, 'বাবা আপনার সাথে একটু হরিনাম করবো আমরা', এই ব্যবসাদারদের লোকনাথ আগে থেকে চিনতো, এরা সুদখোর চশমখর রক্তচোষা পাপী, সারাদিন রক্ত খেয়ে দিনের শেষে এসেছে পাপ ধুইতে, তো এই শুনে ঢ‍্যামনা লোকনাথ সোজা বলে দিল, 'যা যা, হরিনাম করবে! তোদের হরির মুখে মুতি আমি...' । এরপর ব্যবসাদাররা কি আর করে, স্বয়ং লোকনাথের মুখে এমন কথা শুনে তো ওদের মাথায় বাজ, তার ওপর ব্যাবসাদারি বিলিয়নিয়ার ইগোয় চোট লেগে ফেটে চৌচির, তো এরা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি ফলিয়ে লোকনাথকে মোক্ষম শিক্ষা দেবে বলে একেবারে সোজা লোকনাথের গুরুর কাছে গিয়ে কমপ্লেন করে দিয়েছে, 'দেখুন আমরা বললাম সারাদিন খেটে খুটে দিনের শেষে সাধুগুরু মহাপুরুষদের পায়ের কাছে বসে একটু হরিকথা শুনি তো উনি এমন কথা বলে দিলেন, হিন্দু সাধুসন্ত মহাত্মারা এমন কথা বললে সমাজের কি হয় বলুন?' এখন লোকনাথের গুরু তো জানতো লোকনাথ কোন লেবেলের সিয়ানা ঢ‍্যামনা, আবার এদিকে বাজারে...

লেখা ৭

আমার ঈশ্বর নেই মহাবিশ্ব মহানিয়ম আছে, আমি ঈশ্বরের উপাসক নই, ঈশ্বর প্রাপ্ত হয়ে ঈশ্বরে বিলীন হওয়ার অভিলাষী ও নই, আমি এই দুই পক্ষের মাঝামাঝি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ, আমি ঈশ্বরকে ভালবাসিনি, ঈশ্বরের ভালবাসা চাইওনি, ভূত এবং ঈশ্বর এই দুই পক্ষের সাথেই আমার সম্পর্ক হয়ে এসেছে চির লেনাদেনা বিহীন। তবুও মহাবিশ্বের সেই supreme set of rules কি আমাকে ছেড়ে গেছে কি? যায়নি তো! ধরাও দেয়নি... ভালবাসা না বাসার, খাঁটি আর ফাঁকি এদের মধ্যেই তো নাকানি চোবানি খাওয়াচ্ছে আমৃত্যু... ভান্ড ভর্তি ব্রহ্মান্ড নিয়ে ফাঁকি আর বাকির মাঝখানে ডুবে ডুবে জল গিলছি, গিলে গিলে তলাচ্ছি অতলে, চেনা শেষ হলেই তো দাঁতে জিভ কামড়ে রাখা গৃহিনীটির পায়ের তলায় গিয়ে সানন্দে শয্যা গ্রহণ করব.. আর কাল সবাই তার পুজো চড়াবে।

লেখা ৩

ভিড়, জটলা, লোকজনের হৈ হৈ, মার মার ধর ধর রব?কিছু একটা হচ্ছে, কিন্তু কি হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না? ভিড় ভেদ করে কিছুতেই ভেতরে সিঁধতে পারছেন না? আবার ভিতরের ব্যাপারটা না জান্তে পারা অবধি পেটের মধ্যেও কেমন একটা অদ্ভুত অচেনা অনুভূতি সুড়সুড়ি দিচ্ছে? এমন অবস্থায় যদি কোনদিন ভাগ্যচক্রে পরে যান, ভুলেও বেশি বোঝার চেষ্টা করবেন না, চোখ বন্ধ করে একটা ডেঁপোমি করে ফেলুন, দমকলে একটা খবর দিয়ে দিন। বাড়ি ফাঁকা প্রেমিকার বিরহী প্রেমিক, আর কালীঘাটের হাড়-হাভাতে ভিখারি বাদে একমাত্র ওরাই তো আছেন, খবর পাওয়া মাত্র ল্যাজ তুলে না হোক, ঊর্ধ্বশ্বাসে না হোক অন্তত ঢং ঢং রবে এসে হাজির হবেন। আসতে আসতে এলাকায় ঢোকার শহরের সব প্রান্ত থেকে যত রাস্তা আছে তার অর্ধেক খালি, কারণ তখন সবাই ভাবছে কোথাও একটা লেগেছে লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন, আর সেই এলাকায় যদি কপালের কপালফেরে কোনো পুলিশ মামা থেকে থাকেন, যাদের পোশাকতুতো মাসতুতো ভাই বলে আবার দমকলের বীর ঢংঢংকারী দের ধরা যায়,  সেইমামারাও ভাববেন নিশ্চয়ই আশপাশে কোথাও কারোর একটা সযত্নে লালিত শকুনের বাসা ঝাঁটে আগুন লেগেছে, কাজেই ওই অকুস্থলটিও খালি করে দেওয়া তার আশু সাংবিধানিক ক...

Ode to জামাইদা

52 দিন পূর্ন হলো আমার পথে পথে। লাল মাটির রূঢ় ধুলো, আঁজলা ভরা গভীর ম্যানগ্রোভের অক্সিজেন ভরা নোনা হাওয়া, কলকাতার বিষাক্ত ধুলো ধোঁয়া গ্যাসে ফুসফুস ভরে আমার জিরোনো এখনো চলছেই। যা চেয়েছি তা যদি হয়েই যেত তবেই তো শেষ, কিন্তু ব্যাপারটা হবে হবে করেই যাচ্ছে শুধু... বাড়ি তো সবার একটা থাকেই, কেউ বা তাকে বলে খারাপ আর কাউকে সে বলে খারাপ এভাবেই কারোর কারোর ও পথে গতিবিধি কমে যায়।(অনাথবন্ধু উবাচঃ) তারপর পরে থাকে সোজা দুই চোখ আর তার দৃষ্টি। প্রান্তিকের পাড়ে রেল লাইনের ধারে জামাই-দা, কেটলি ভর্তি চা নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রির দিন শেষে বলেছিল, 'এত যে সাইকেল নিয়ে টো টো কোম্পানি করে বেড়াচ্ছ, বলো তো দেখি একটা লোক কত দূর যেতে পারে?' উত্তর দিতে পারিনি, নির্বাক দৃষ্টিতে গাঁজায় আরক্ত লাল অথৈ চোখের দিকে চেয়েছিলাম অপলক। উত্তর দিয়েছিল জামাইদাই, 'হল না বাবু! একটা মানুষ ততটাই যেতে পারে যতদূর তার চোখ যায়, তার ওপারে কোথায় যাবে বলতে পারো?' আমার দর্শনের অন্ধের যোষ্টি ভেঙে পড়লো, তার পরেই জামাইদা শান্ত উৎসুক গলায় চোখের দিকে টান টান হয়ে, কড়া পড়া শক্ত হাতে আমার হাঁটুতে হাত রেখে জিগেস করেছিল, 'তোমার চোখ কত...

এক বিড়াল প্রসঙ্গে

এক বিড়াল প্রসঙ্গে এই আরো এক আমৃত্যু অনিকেত ফক্কড় শিরোমণি,অত্যন্ত উচ্চ মার্গের এক সাধক ফক্কড়,এক ঝপ্পড়ের তলায় একের বেশি দুই রাত পরপর যাপন করেন না - 'ঢলতা পানি রমতা ফকির'। মানুষের মাঝে থেকেও সর্ব বন্ধন মুক্ত। সবার ভালবাসা নেন, সবাইকে প্রেম বিলোন, তারপর পাখির মতো ডানা মেলে সব জল ঝেড়ে উড়ে যান, পিছনে ফিরে তাকানও না একবার, আজও মুক্ত... জীবনে সাধনা বলতে দুই, অজগর ব্রত ও পঞ্ছি ব্রতের মতো দুইখানি ভয়ঙ্কর ব্রত। অজগর ব্রত অর্থাৎ ময়াল সাপের মতো কারোর কাছে খাদ্য ভিক্ষায় যাবেন না, যেদিন যেটুকু খাবার এর সাথে মুখোমুখি হবে সেটুকুই সেদিনের সেবা, নতুবা উপোস। আর পঞ্ছি ব্রত অর্থাৎ আজ যেটুকু জোটে সেটুকু আজই খেয়ে বিলিয়ে শেষ করতে হবে, কালকের জন্যে রাখা চলবে না। বলা বাহুল্য এতেও তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়না কখনো।  সকালে দরজা খুলেই দেখি আজ আমার দ্বারের পাশে পথে বসে আছেন মুখে চোট নিয়ে, কোথাও কোনো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বোধ হয়, ভগ্ন হৃদয়ে মনুষ্য সঙ্গ করতে এসেছেন একটু। পায়ে মুখ ঘষে মিউ মিউ ভাষায় কত কথা জানালো, হাত আঁকড়ে ধরে ওর করুন কাহিনী ব্যক্ত করল, আমার চারপাশে ঘুরে ঘুরে কয়েকবার পরিক্রমা করে আমার ব্যাপ...

ঈশ্বর সম্পর্কে

ঈশ্বর সম্পর্কে ঠাকুর, ঈশ্বর এরা আসলে একটা একটা চুইং গামের মতো, যেটা ভাত ডাল সমান জ্ঞান করেই মুখে ফেলে লোক, তারপর যেই দেখে না... এ তো আমার মুখ, পেটে ঠিক হজম হওয়ার জিনিস না, জিনিসটা এক্সপেন্ডেবল, বাড়ছে, এর সীমা ঠিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, একে আজন্ম চিবিয়ে যেতে গেলে অনেক এনার্জি ক্ষয়, তখন হে ঠাকুর হে ঠাকুর করে সাষ্টাঙ্গে প্রনিপাত করে ফুঁ দিয়ে ফোলানো শুরু করে, যতক্ষণ না জিনিসটা এত ফোলে, যে ফুলতে ফুলতে ফেটে গিয়ে নিজের মুখেই ভেটকে যায়....  

পাহাড় সম্পর্কে

পাহাড় মানে শুধু কয়েকটা পাথর আর বরফের স্তুপ বা কিছু দানবাকৃতি প্রাণহীন শক্ত বস্তু নয়। লক্ষ কোটি বছর আগের মহাজাগতিক বিস্ফোরণের জঞ্জাল স্বরূপ যে স্টারডাস্ট হয়ে আমি আপনি সাক্ষাৎ ঈশ্বর রূপে ঘুরছি, পাহাড় পর্বতেরা তারই মূর্ত রূপ, বা বিশালাকারী উদাহরণ স্বরূপ পৃথিবীর বুকে আরেক পৃথিবী । হ্যাঁ পাহাড় পর্বতেরা সাক্ষাৎ ঈশ্বর! সুর, শিল্প, সমাধি, ভালবাসার মতনই কর্তাহীন ঈশ্বর, যেখানে  no one denied, no one permitted, no one wrote the rule, যে নিজেকে হারায় সে পায়। ঈশ্বর প্রাপ্তি সহজেই হয়, যতক্ষন তার ঘণ্টাধ্বনির অনুরণন কানে ঠিক স্বরে বাজে, কঠিন নয় সহজ, যতক্ষন তার সুরে সুরে অন্তর বাজে। যদি ঈশ্বর সেই the simplest set of rules হয়, যার decipline এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সুরে বাধা থাকে, বায়ু ঠিক দিকে বয়, জলের পরমাণু ঠিক বাঁধুনিতে বাঁধা থাকে, তবে পাহাড় পর্বতরা সেই desipline এর মূর্ত ধারক, এ কঠোর, এ কোমল, এ প্রাণঘাতী, এ প্রাণদায়ী... আসলে কোনটাই না, এ শুধু নিজের কঠিন কর্তাহীন ডিসিপ্লিনে বাধা জীবন মৃত্যুর গোলকধাঁধা...