একটা গল্প বলি, মুখে মোতার গল্প, বাবা লোকনাথের কাছে তো প্রতিদিন প্রচুর লোক আসত বিভিন্ন প্রকার বক্তব্য নিয়ে, তো এমনি একদিন সন্ধ্যের টাইমে লোকাল বাজারের একদল প্রতিষ্ঠিত মাড়োয়ারি ব্যবসাদার এসেছে, 'বাবা আপনার সাথে একটু হরিনাম করবো আমরা', এই ব্যবসাদারদের লোকনাথ আগে থেকে চিনতো, এরা সুদখোর চশমখর রক্তচোষা পাপী, সারাদিন রক্ত খেয়ে দিনের শেষে এসেছে পাপ ধুইতে, তো এই শুনে ঢ্যামনা লোকনাথ সোজা বলে দিল, 'যা যা, হরিনাম করবে! তোদের হরির মুখে মুতি আমি...' । এরপর ব্যবসাদাররা কি আর করে, স্বয়ং লোকনাথের মুখে এমন কথা শুনে তো ওদের মাথায় বাজ, তার ওপর ব্যাবসাদারি বিলিয়নিয়ার ইগোয় চোট লেগে ফেটে চৌচির, তো এরা নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি ফলিয়ে লোকনাথকে মোক্ষম শিক্ষা দেবে বলে একেবারে সোজা লোকনাথের গুরুর কাছে গিয়ে কমপ্লেন করে দিয়েছে, 'দেখুন আমরা বললাম সারাদিন খেটে খুটে দিনের শেষে সাধুগুরু মহাপুরুষদের পায়ের কাছে বসে একটু হরিকথা শুনি তো উনি এমন কথা বলে দিলেন, হিন্দু সাধুসন্ত মহাত্মারা এমন কথা বললে সমাজের কি হয় বলুন?' এখন লোকনাথের গুরু তো জানতো লোকনাথ কোন লেবেলের সিয়ানা ঢ্যামনা, আবার এদিকে বাজারের কর্তা স্থানীয় ব্যক্তিরা বয়ে এসেছে, কিছু বলারও নেই, এদের মন না রাখতে পারলে আশ্রম টেঁকে না, তো এদিক ওদিক ভেবে লোকনাথকে ডেকেই পাঠালেন, 'কি লোকনাথ তুমি নাকি কি সব অশ্লীল অশাস্ত্রীয় কথা বলেছ ভক্তদের সামনে, তাও দেব দেবীর নামে?' লোকনাথ নির্বিকার মুখে শুনলেন, তারপর ছিলিমে শান্তশিষ্ট ভাবে একটান লাগিয়ে, ধোঁয়াটা মৌজ করে ছেড়ে - 'কি বলেছি! বলেছি হরির মুখে মুতি আমি, তা এতে কি ভুলটা হয়েছে? হরি যখন হাঁ করে বিশ্বদর্শন করিয়েছিলেন তখন আমি আপনি যেখানেই মুতি না কেন জায়গাটা কি ওই বিশ্বের বাইরে ছিল?'
পাহাড় মানে শুধু কয়েকটা পাথর আর বরফের স্তুপ বা কিছু দানবাকৃতি প্রাণহীন শক্ত বস্তু নয়। লক্ষ কোটি বছর আগের মহাজাগতিক বিস্ফোরণের জঞ্জাল স্বরূপ যে স্টারডাস্ট হয়ে আমি আপনি সাক্ষাৎ ঈশ্বর রূপে ঘুরছি, পাহাড় পর্বতেরা তারই মূর্ত রূপ, বা বিশালাকারী উদাহরণ স্বরূপ পৃথিবীর বুকে আরেক পৃথিবী । হ্যাঁ পাহাড় পর্বতেরা সাক্ষাৎ ঈশ্বর! সুর, শিল্প, সমাধি, ভালবাসার মতনই কর্তাহীন ঈশ্বর, যেখানে no one denied, no one permitted, no one wrote the rule, যে নিজেকে হারায় সে পায়। ঈশ্বর প্রাপ্তি সহজেই হয়, যতক্ষন তার ঘণ্টাধ্বনির অনুরণন কানে ঠিক স্বরে বাজে, কঠিন নয় সহজ, যতক্ষন তার সুরে সুরে অন্তর বাজে। যদি ঈশ্বর সেই the simplest set of rules হয়, যার decipline এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সুরে বাধা থাকে, বায়ু ঠিক দিকে বয়, জলের পরমাণু ঠিক বাঁধুনিতে বাঁধা থাকে, তবে পাহাড় পর্বতরা সেই desipline এর মূর্ত ধারক, এ কঠোর, এ কোমল, এ প্রাণঘাতী, এ প্রাণদায়ী... আসলে কোনটাই না, এ শুধু নিজের কঠিন কর্তাহীন ডিসিপ্লিনে বাধা জীবন মৃত্যুর গোলকধাঁধা...
Comments
Post a Comment