Skip to main content

লেখা ৩


ভিড়, জটলা, লোকজনের হৈ হৈ, মার মার ধর ধর রব?কিছু একটা হচ্ছে, কিন্তু কি হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না? ভিড় ভেদ করে কিছুতেই ভেতরে সিঁধতে পারছেন না? আবার ভিতরের ব্যাপারটা না জান্তে পারা অবধি পেটের মধ্যেও কেমন একটা অদ্ভুত অচেনা অনুভূতি সুড়সুড়ি দিচ্ছে? এমন অবস্থায় যদি কোনদিন ভাগ্যচক্রে পরে যান, ভুলেও বেশি বোঝার চেষ্টা করবেন না, চোখ বন্ধ করে একটা ডেঁপোমি করে ফেলুন, দমকলে একটা খবর দিয়ে দিন। বাড়ি ফাঁকা প্রেমিকার বিরহী প্রেমিক, আর কালীঘাটের হাড়-হাভাতে ভিখারি বাদে একমাত্র ওরাই তো আছেন, খবর পাওয়া মাত্র ল্যাজ তুলে না হোক, ঊর্ধ্বশ্বাসে না হোক অন্তত ঢং ঢং রবে এসে হাজির হবেন। আসতে আসতে এলাকায় ঢোকার শহরের সব প্রান্ত থেকে যত রাস্তা আছে তার অর্ধেক খালি, কারণ তখন সবাই ভাবছে কোথাও একটা লেগেছে লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন, আর সেই এলাকায় যদি কপালের কপালফেরে কোনো পুলিশ মামা থেকে থাকেন, যাদের পোশাকতুতো মাসতুতো ভাই বলে আবার দমকলের বীর ঢংঢংকারী দের ধরা যায়,  সেইমামারাও ভাববেন নিশ্চয়ই আশপাশে কোথাও কারোর একটা সযত্নে লালিত শকুনের বাসা ঝাঁটে আগুন লেগেছে, কাজেই ওই অকুস্থলটিও খালি করে দেওয়া তার আশু সাংবিধানিক কর্তব্যগুলির মধ্যে একটা। ফলে মাঝখান থেকে কি হল কিছু হৃদয়ঙ্গম করলেন?? শাস্ত্রে আছে হৃদিস্থিত হৃষিকেশ হচ্ছেন ভাবগ্রাহী জনার্দন, প্রভুর মহিমায় ভক্তবাঞ্ছা কল্পতরু আপনার হৃদকমলে বসেই আপনার বাসনাটুকু টের পেয়ে গেলেন... এলাকা খালি, দুই প্রকার খাকি পোশাকধারী উপস্থিত, আর আপনি স্বয়ং...

Comments

Popular posts from this blog

পাহাড় সম্পর্কে

পাহাড় মানে শুধু কয়েকটা পাথর আর বরফের স্তুপ বা কিছু দানবাকৃতি প্রাণহীন শক্ত বস্তু নয়। লক্ষ কোটি বছর আগের মহাজাগতিক বিস্ফোরণের জঞ্জাল স্বরূপ যে স্টারডাস্ট হয়ে আমি আপনি সাক্ষাৎ ঈশ্বর রূপে ঘুরছি, পাহাড় পর্বতেরা তারই মূর্ত রূপ, বা বিশালাকারী উদাহরণ স্বরূপ পৃথিবীর বুকে আরেক পৃথিবী । হ্যাঁ পাহাড় পর্বতেরা সাক্ষাৎ ঈশ্বর! সুর, শিল্প, সমাধি, ভালবাসার মতনই কর্তাহীন ঈশ্বর, যেখানে  no one denied, no one permitted, no one wrote the rule, যে নিজেকে হারায় সে পায়। ঈশ্বর প্রাপ্তি সহজেই হয়, যতক্ষন তার ঘণ্টাধ্বনির অনুরণন কানে ঠিক স্বরে বাজে, কঠিন নয় সহজ, যতক্ষন তার সুরে সুরে অন্তর বাজে। যদি ঈশ্বর সেই the simplest set of rules হয়, যার decipline এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সুরে বাধা থাকে, বায়ু ঠিক দিকে বয়, জলের পরমাণু ঠিক বাঁধুনিতে বাঁধা থাকে, তবে পাহাড় পর্বতরা সেই desipline এর মূর্ত ধারক, এ কঠোর, এ কোমল, এ প্রাণঘাতী, এ প্রাণদায়ী... আসলে কোনটাই না, এ শুধু নিজের কঠিন কর্তাহীন ডিসিপ্লিনে বাধা জীবন মৃত্যুর গোলকধাঁধা... 

হেরিনু স্বপনে: একটি ভবিষ্যতের স্বপ্নাদেশ

হেরিনু স্বপনে : একটি ভবিষ্যতের স্বপ্নাদেশ নিষ্কর্মা আনপ্রোডাক্টিভ লকডাউনের বাজার, দুপুরবেলা খেয়ে উঠে কী নিয়ে ভাবা যায় তাই একটু মন দিয়ে ভাবার চেষ্টা করছিলাম আরকি। আর এই ভাবতে ভাবতেই একটু ঝিম লেগে গেসল বুঝলেন, আর সেই ঝিমে ঢুলতে ঢুলতেই দেয়ালে ঠুকে গেল মাথাটা ঠকাস করে... আর এই এক ঠোকায় একটা আস্ত স্বপ্ন দেখে ফেললুম! দেখলুম কী, গোটা বিশ্ব যখন একটা করোনা নিয়ে ন্যাজেগোবরে, তার মধ্যে চীনে রিলিজ করেছে 'করোনা ম্যাক্স প্রো V2.0' । আর এবার এ মক্কেল শুধু উহান প্রদেশ না, হুঁ হুঁ,গোটা চীনের গর্দান কামড়ে ধরেছে কষে! এমনকি শুধু চীন বলে চীন? চীনের সীমানা পেরিয়ে বুলেট ট্রেনে চেপে  তিব্বতের ওইসব প্রাগৈতিহাসিক গ্লেসিয়ার, পাহাড় ক্রস করে ভাইসাব পাড়ি দিয়েছেন এক্কেবারে তিব্বতের লাসা, শিগৎসে, গিয়াৎসে হয়ে বেবাক ভারত-চীন সীমান্ত অব্দি। আর উদিকে পশ্চিমে কৈলাস, মানস সরোবর পেরিয়ে ইন্দাস নদীর পোঁ ধরে লাদাখের সীমান্ত অবধি খোশমেজাজে উড়ে বেড়াচ্ছেন এই সুপার ভাইরাস বেরাদর! যাকে বলে গিয়ে এক্কেরে ম্যাসাকার অবস্থা চীনের! আর এই চৈনিক চব্যের মধ্যে খোদার খামখা পরে ব্যাপক কেস খেয়ে গেছে আমাদের ভারতের আই টি বি পি জওয়ানরাগুল...

Ode to জামাইদা

52 দিন পূর্ন হলো আমার পথে পথে। লাল মাটির রূঢ় ধুলো, আঁজলা ভরা গভীর ম্যানগ্রোভের অক্সিজেন ভরা নোনা হাওয়া, কলকাতার বিষাক্ত ধুলো ধোঁয়া গ্যাসে ফুসফুস ভরে আমার জিরোনো এখনো চলছেই। যা চেয়েছি তা যদি হয়েই যেত তবেই তো শেষ, কিন্তু ব্যাপারটা হবে হবে করেই যাচ্ছে শুধু... বাড়ি তো সবার একটা থাকেই, কেউ বা তাকে বলে খারাপ আর কাউকে সে বলে খারাপ এভাবেই কারোর কারোর ও পথে গতিবিধি কমে যায়।(অনাথবন্ধু উবাচঃ) তারপর পরে থাকে সোজা দুই চোখ আর তার দৃষ্টি। প্রান্তিকের পাড়ে রেল লাইনের ধারে জামাই-দা, কেটলি ভর্তি চা নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রির দিন শেষে বলেছিল, 'এত যে সাইকেল নিয়ে টো টো কোম্পানি করে বেড়াচ্ছ, বলো তো দেখি একটা লোক কত দূর যেতে পারে?' উত্তর দিতে পারিনি, নির্বাক দৃষ্টিতে গাঁজায় আরক্ত লাল অথৈ চোখের দিকে চেয়েছিলাম অপলক। উত্তর দিয়েছিল জামাইদাই, 'হল না বাবু! একটা মানুষ ততটাই যেতে পারে যতদূর তার চোখ যায়, তার ওপারে কোথায় যাবে বলতে পারো?' আমার দর্শনের অন্ধের যোষ্টি ভেঙে পড়লো, তার পরেই জামাইদা শান্ত উৎসুক গলায় চোখের দিকে টান টান হয়ে, কড়া পড়া শক্ত হাতে আমার হাঁটুতে হাত রেখে জিগেস করেছিল, 'তোমার চোখ কত...