52 দিন পূর্ন হলো আমার পথে পথে। লাল মাটির রূঢ় ধুলো, আঁজলা ভরা গভীর ম্যানগ্রোভের অক্সিজেন ভরা নোনা হাওয়া, কলকাতার বিষাক্ত ধুলো ধোঁয়া গ্যাসে ফুসফুস ভরে আমার জিরোনো এখনো চলছেই। যা চেয়েছি তা যদি হয়েই যেত তবেই তো শেষ, কিন্তু ব্যাপারটা হবে হবে করেই যাচ্ছে শুধু... বাড়ি তো সবার একটা থাকেই, কেউ বা তাকে বলে খারাপ আর কাউকে সে বলে খারাপ এভাবেই কারোর কারোর ও পথে গতিবিধি কমে যায়।(অনাথবন্ধু উবাচঃ) তারপর পরে থাকে সোজা দুই চোখ আর তার দৃষ্টি। প্রান্তিকের পাড়ে রেল লাইনের ধারে জামাই-দা, কেটলি ভর্তি চা নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রির দিন শেষে বলেছিল, 'এত যে সাইকেল নিয়ে টো টো কোম্পানি করে বেড়াচ্ছ, বলো তো দেখি একটা লোক কত দূর যেতে পারে?' উত্তর দিতে পারিনি, নির্বাক দৃষ্টিতে গাঁজায় আরক্ত লাল অথৈ চোখের দিকে চেয়েছিলাম অপলক। উত্তর দিয়েছিল জামাইদাই, 'হল না বাবু! একটা মানুষ ততটাই যেতে পারে যতদূর তার চোখ যায়, তার ওপারে কোথায় যাবে বলতে পারো?' আমার দর্শনের অন্ধের যোষ্টি ভেঙে পড়লো, তার পরেই জামাইদা শান্ত উৎসুক গলায় চোখের দিকে টান টান হয়ে, কড়া পড়া শক্ত হাতে আমার হাঁটুতে হাত রেখে জিগেস করেছিল, 'তোমার চোখ কতদূর যায় বাবু?' জামাইদা তো বড়বাজারের মুটে থেকে শান্তিনিকেতনের রিকশাটানা, চা ফেরি করা বহুপেশাজীবি, তাই বাবু বলার অভ্যেসটা ছাড়তে পারেনি বোধহয়। কিন্তু আমার তখন নতুন জন্মাবস্থা, কিসের দর্শন, কিসের শিক্ষা, কিসের স্কুল কলেজ উনিভার্সিটির ডিগ্রি! Philosophy is the clutch for the lames who want to walk on the path of truth but can not. এই পথের থেকে বড় স্কুল, কলেজ, উনিভার্সিটি অভিভাবক আর কোনো নাই। এই পথের ধুলোয় যে সেজদা ফেরি করে ফেরে এই পথ তাকে সেজদা দেয়। যতদূর চোখ যায় ততদূর ঘর... এই পথ তাকে নোনা রাখে।
পাহাড় মানে শুধু কয়েকটা পাথর আর বরফের স্তুপ বা কিছু দানবাকৃতি প্রাণহীন শক্ত বস্তু নয়। লক্ষ কোটি বছর আগের মহাজাগতিক বিস্ফোরণের জঞ্জাল স্বরূপ যে স্টারডাস্ট হয়ে আমি আপনি সাক্ষাৎ ঈশ্বর রূপে ঘুরছি, পাহাড় পর্বতেরা তারই মূর্ত রূপ, বা বিশালাকারী উদাহরণ স্বরূপ পৃথিবীর বুকে আরেক পৃথিবী । হ্যাঁ পাহাড় পর্বতেরা সাক্ষাৎ ঈশ্বর! সুর, শিল্প, সমাধি, ভালবাসার মতনই কর্তাহীন ঈশ্বর, যেখানে no one denied, no one permitted, no one wrote the rule, যে নিজেকে হারায় সে পায়। ঈশ্বর প্রাপ্তি সহজেই হয়, যতক্ষন তার ঘণ্টাধ্বনির অনুরণন কানে ঠিক স্বরে বাজে, কঠিন নয় সহজ, যতক্ষন তার সুরে সুরে অন্তর বাজে। যদি ঈশ্বর সেই the simplest set of rules হয়, যার decipline এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সুরে বাধা থাকে, বায়ু ঠিক দিকে বয়, জলের পরমাণু ঠিক বাঁধুনিতে বাঁধা থাকে, তবে পাহাড় পর্বতরা সেই desipline এর মূর্ত ধারক, এ কঠোর, এ কোমল, এ প্রাণঘাতী, এ প্রাণদায়ী... আসলে কোনটাই না, এ শুধু নিজের কঠিন কর্তাহীন ডিসিপ্লিনে বাধা জীবন মৃত্যুর গোলকধাঁধা...
Comments
Post a Comment